ভালুকায় সাপের দেখা পেলেই ডাক পরে রাজুর শতাধিক সাপ উদ্ধার।

মোহাম্মদ রাজু ঢালী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শত ব্যস্ততার মধ্যেও বিষধর সাপের খবর পেলে ছুটে যান তিনি। বিনা পারিশ্রমিকে সাপ ধরে অবমুক্ত করেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা রাজু আহমেদ (২৪) জানিয়েছেন, শখ থেকেই এ কাজ শুরু করেছিলেন। পরে স্নেক রেসকিউর ওপর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। বন্য প্রাণীর প্রতি ভালো লাগা থেকেই তিনি চাকরির পাশাপাশি সাপ উদ্ধার করেন।

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার চরপাড়া গ্রামে জন্ম রাজুর। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন। এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পাশাপাশি স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মানুষের বাসাবাড়িতে সাপ ঢুকলে খবর দিলে তিনি ছুটে যান। ছোটবেলা থেকেই সাপ রেসকিউ করার চিন্তা মাথায় আসে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না তখন। ডিসকভারি, জিওগ্রাফিক চ্যানেল দেখে এ বিষয়ে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এভাবেই তিনি নিজে নিজে সাপ ধরার কৌশল শিখে নেন। পরে স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের তৎকালীন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান রাব্বির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। দুই বছর আগে সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পুরোদমে সাপ রেসকিউ শুরু করেন। ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এখন পর্যন্ত তিনি শতাধিক নির্বিষ ও বিষধর সাপ উদ্ধার করেছেন।

ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, ‘কিছুদিন আগে আমার বাড়িতে সাপ ঢোকে। আমি রাজুকে খবর দিই। তিনি আমার বাড়ি থেকে একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করে নিয়ে যান।’

রাজু আহমেদ বলেন, ‘সাপের নাম শুনলেই মানুষ ভয় পায়। সাপ মারার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। একটু সচেতন হলে মানুষ সাপের কামড় থেকে বাঁচতে পারে। সাপ দেখলেই যদি তা মেরে ফেলা হয়, তাহলে পরিবেশের অনেক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

রাজু আরও বলেন, ‘কৃষিজমির জন্য ইঁদুর ক্ষতিকর। কিন্তু সাপ ইঁদুর দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া দেশে যেসব সাপ পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে নির্বিষ সাপের সংখ্যাই বেশি। আর এই নির্বিষ সাপের কামড়ে চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়ে না।’

স্নেক রেসকিউ টিম সম্পর্কে রাজু বলেন, ‘এটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২০২০ সালে এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়। স্নেক রেসকিউ টিম ২০টি জেলায় কাজ করছে। এখন অনলাইনে সদস্যদের বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে ২৫ জন স্নেক রেসকিউয়ার সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *