
মো: কাউছার খান,
বিশেষ প্রতিনিধি : দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারানো এবং সহকর্মীদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি (প্রোডাকশন জিপিএফ-১) এর প্যাকেজিং বিভাগের বার্ষিক বনভোজন। আনন্দ, আড্ডা আর উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি হয়ে উঠেছিল স্মৃতিময়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক থেকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত বাসে করে শুরু হয় এই আনন্দ যাত্রা। যাত্রাপথেই শুরু হয় সহকর্মীদের প্রাণখোলা আড্ডা আর গান। নকলা উপজেলায় যাত্রাবিরতি দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে নেওয়ার পর সবাই দ্বিগুণ উৎসাহে এগিয়ে চলেন গন্তব্যের পানে।
যাত্রার প্রথম ভাগে অংশগ্রহণকারীরা পৌঁছান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মধুটিলা ইকোপার্কে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ বনভূমি আর নির্মল বাতাস সবার ক্লান্তি দূর করে মনে এনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। এরপর বহরটি পৌঁছায় ঐতিহ্যবাহী গজনী অবকাশ কেন্দ্রে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সবাই একত্রে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন, যা সহকর্মীদের মাঝে এক বড় পরিবারের আমেজ তৈরি করে।
পরবর্তী আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। প্রোডাকশন ফ্লোর সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম শফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রোডাকশন ম্যানেজার রাকিবুল হাসান রাকিব। তিনি তাঁর বক্তব্যে কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় প্রধান অতিথি উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জুনিয়র প্রোডাকশন ম্যানেজার আব্দুস ছাত্তার, সিনিয়র প্রোডাকশন এক্সিকিউটিভ আমিনুল ইসলাম এবং প্রোডাকশন এক্সিকিউটিভ সৌরভ ও মুফিদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন প্রোডাকশন ফ্লোর সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, আল-আমিনসহ জুনিয়র প্রোডাকশন সুপারভাইজার ফরহাদ, পারভেজ মোশারফ এবং বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।
গজনীর সৌন্দর্য উপভোগ শেষে ভ্রমণের বাড়তি আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন। বিকেলের শান্ত পরিবেশে সীমান্তের এই নান্দনিক দৃশ্য সহকর্মীদের মাঝে দারুণ শিহরণ ও বাড়তি আনন্দের যোগান দেয়।
সারাদিনব্যাপী এই বনভোজন কেবল একটি ভ্রমণই ছিল না; এটি ছিল সহকর্মীদের মাঝে হৃদ্যতা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক অনন্য সেতুবন্ধন। কর্মজীবনের একঘেয়েমি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজের প্রেরণা জোগাতে এমন আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম।
