ভালুকায় ছয় মাস সংসারের পর স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর ধর্ষন মামলা, স্বামী জেলে

ভালুকা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : 

ভালুকার গোয়ারী গ্রামে বিয়ে করে ছয় মাস দশ দিন সংসার করার পর ধর্ষনের অভিযোগে মারুফ আহমেদ রাজু নামে এক স্বামী কারা ভোগ করছেন। ঘটনাটি উপজেলার রাংচাপড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার গোয়ারী গ্রামের মারুফ আহমেদ রাজু (২১) ও পার্শ্ববর্তী রাংচাপড়া গ্রামের সায়মা জান্নাত সুমাইয়ার মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো। তাদের প্রেমের গভীরতা যত বাড়তে থাকে এক পর্যায়ে মেয়ে ছেলেকে বিবাহের জন্য অনবরত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ছেলে বিষয়টি তার মা বাবাকে জানালে তার মা-বাবা ছেলেকে বুঝিয়ে শুনিয়ে সরে আসতে বলে। মা বাবার কথা মতো মেয়েকে জানালে মেয়ে মানতে রাজি না হয়ে ঐদিনই ছেলের বাড়ীতে চলে আসে। পরে ছেলের মা মেয়েকে বুঝিয়ে মেয়ের অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মেয়ে পরপর কয়েকবার ছেলের বাড়ীতে চলে আসে এক পর্যায়ে মেয়ের এক আত্মীয় ছেলের বাড়ীতে এসে ছেলেকে মারধর করে। পরে ছেলের পরিবার এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে মেয়ের অভিভাবকদের হাতে মেয়েকে তুলে দেয়। কিছুদিন পর আবারও মেয়ে ছেলেদের বাড়ীতে গিয়ে মারুফ আহমেদ রাজুকে হুমকি দেয় তুমি আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করবো। তখন ছেলে এবং ছেলের পরিবার আবার মেয়ের বাড়ীতে খবর পাঠায়। মেয়ের পরিবারও কোন উপায় না পেয়ে নিজেদের মানসম্মান বাঁচাতে বিয়ে পড়াতে অনুমতি দেয় এবং বিয়েতে অনুপস্থিত থাকে। ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ায় নিকা রেজিষ্ট্রেশন না করে ইসলামী সরিয়া অনুযায়ী তাদের দুজনের বিয়ের সম্পূর্ণ করা হয়। বিবাহের মাস ছয়েক হওয়ার পর স্বামী স্ত্রী মধ্যে ঝগড়াঝাটি এক পর্যায়ে মেয়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসে।

পরে মেয়ের পরিবার পূর্বের জেদ শাসনের উদ্দেশ্যে মেয়েসহ থানায় গিয়ে মেয়েকে বাদী করে ছেলের বিরোদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষনের অভিযোগ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ছেলেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করে।

উল্লেখ্য যে, মেয়ের পরিবার গত ছয় মাসের মধ্যে তাদের মেয়ে অপহরণ বা হারানোর বিষয়ে থানায় জিডি বা কোন মামলা করে নাই। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ এই ছেলেকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দাবী জানান এলাকাবাসী।

ছেলের চাচা মোঃ ফালান মিয়া বলেন, আমার ভাতিজা সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমরা পারিবারিক ভাবে বিয়ে করাইছি, মেয়ে এখানে ছয় মাস সংসার করছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *