
মোহাম্মদ রাজু ঢালী
ভালুকা (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহ ভালুকা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড ভান্ডাব মোঃ রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে রোজিনা (২৭) কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহের ভালুকায় মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা উপজেলার কোর্ট ভবনের সামনে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে রুজিনার পরিবার জানায়, গত মঙ্গলবার ত্রিশালের গুজিয়াম এলাকায় স্বামীর বাড়ীতে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় রুজিনার মরদেহ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানা পুলিশ। নিহত রুজিনার মা ফাহিমা খাতুন কান্নায় জর্জরিত অবস্থায় জানান, রুজিনার সাত বছরের ছেলে মিসকাত রানা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে তাকে জানায়। তবে কথা শেষ না হতেই মোবাইল ফোনে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আর ফোন রিসিভ হয়নি। পরে তারা তাত্ক্ষণিক রুজিনার শশুরবাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে রুজিনার মরদেহ পায় কিন্তু রুজিনার ৭বছরের ছেলে মিসকাত রানাকে পায়নি।
রুজিনার ভাই ফয়সাল (২৩) জানায়: বিয়ের পর থেকে রুজিনার স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য আমার বোনকে শারিরীক নির্যাতন করতো। গত ১২ আগস্ট যৌতুকের জন্য আমার বোনকে দা দিয়ে কপালে কুপিয়ে আহত করলে আমার বোন তিনদিন ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিল , তারপর ঘটনায় এলাকার মুরুব্বিরা ঘরোয়া সালিসি মাধ্যমে সমাধান করে দিলেও, পরবর্তীতে ঘটনার দিন গত ১৯ সেপ্টেম্বর শারীরিক নির্যাতন করে আমার বোনকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আর আমার ভাগ্নে মিসকাত ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও নিখোঁজ করা হয়েছে।
তবে ঘটনার সম্পর্কে অভিযোক্ত স্বামী মাসুদ রানা (৩২) তার বড় ভাই মনসুর (৪৫) ত্রিশাল উপজেলা বগারবাজার গুজিয়াম এলাকার কদ্দুস ফকিরের ছেলে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত কারো সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, ঘটনার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে।
