
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : মাত্র তিন বছর আগেও ছিলেন বেকার যুবক। সাধারণ কৃষক বাবার সন্তান হয়েও আজ চড়েন দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে, হাতে দামী ফোন। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের হারুয়া গ্রামের কাউসার ফকিরের (২৪) এই চোখ ধাঁধানো পরিবর্তনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার জগত। অনলাইন জুয়ার এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে অসংখ্য মানুষকে নিঃস্ব করে নিজে বনে গেছেন কোটিপতি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত তিন বছরে কাউসার দেশি-বিদেশি অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টাকার পাহাড় গড়েছেন। তার এই নেটওয়ার্ক এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বিস্তৃত। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউসার শুধু জুয়াড়ী নন, তিনি এই অঞ্চলের কয়েকশ তরুণকে জুয়ার ‘সাগর খেলা’ শেখানো এবং ডলার লেনদেনে সরাসরি সহায়তা করেন।
কাউসারের সাজানো জুয়ার ফাঁদে পা দিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের বহু সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ আজ পথে বসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, আগে যাকে বখাটে মনে করে কেউ পাত্তা দিত না, এখন তার বিলাসী জীবন দেখে সবাই হতবাক। এলাকার মানুষের দাবি, এই চক্রের মূল হোতাকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে কাউসারের মোবাইলে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি এখন দেশি সিমের চেয়ে বিদেশি নম্বরে যোগাযোগ করতেই বেশি পছন্দ করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কাউসারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
