
মোহাম্মদ রাজু ঢালী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহে দিন দিন বাড়ছে মাছ, মাংস, কাঁচা-বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসিপত্রের দাম। উৎপাদন ও সরবরাহ বেশি থাকলেও জিনিসপত্রের দাম শুনে হতাশ বাজারে আসা ক্রেতারা।
সোমবার (২৮ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, একজোড়া ফুলকপি ১২০ টাকা, লেবুর হালি ২৫-৩০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, মরিচ ২০০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকা, আমদামিকৃত পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকা, পালংশাক ১০০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১০০০-১১০০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, ব্রয়লার ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি থেকে বড় একেকটি রুই মাছ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, ছোট মাছ ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ময়মনসিংহ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলে অনেক বেশি সবজি উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। তারপরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। মেছুয়া বাজার, নতুন বাজার, চরপাড়া, সানকিপাড়া, গোহাইলকান্দি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকার ব্যবধানে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, সবজির দাম শুনলে নিজেকে অসহায় মনে হয়। এত দাম দিয়ে কয়টা সবজি কিনব। এই অঞ্চলে যে পরিমাণ সবজি, মাছ উৎপাদন হয় তাতে দাম কম হওয়ার কথা। ব্যবসায়ীরা টেলিভিশন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জিনিসের দাম দেখে তারাও সেই দাম নিচ্ছেন। বাজারে প্রচুর সবজি আছে, কিন্তু তাও কম দামে বিক্রি করতে রাজি নন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে বাড়তি দাম নিয়ে। প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিং করা এবং প্রতিদিনই বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা।
বাজার করতে আসা ক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, বাজারে যে বাজেট নিয়ে আসি তা দিয়ে বাজার কমপ্লিট করতে পারি না। প্রতিদিনই কোন না কোন জিনিসের দাম বাড়ছেই।
বাজার করতে আসা আরেক ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ডিমের দাম কমলে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, পেঁয়াজের দাম কমলে আলুর দাম বাড়ছে এভাবেই সিন্ডিকেটদারীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সিন্ডিকেটের কাছে আমরা সাধারণ মানুষ অসহায়।
মেছুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরহাদ হোসেন জানান, গ্রীস্মকালীন সবজির সময় এখন শেষের দিকে। তাই বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম একটু বেশি আছে। শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেই দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বাজারে কিছু শীতকালীন সবজি পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম একটু বেশি। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে। আর এবার নদ নদীতে পানি না থাকায় মাছের সরবরাহ কম। দামও বেশি। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জের হাওর থেকে যে মাছ গুলো আসে সেগুলোও একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষের মাছ গুলো দাম তুলনামুলক ভাবে কিছুটা কম আছে।
ত্রিশাল উপজেলার কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান বলেন, ময়মনসিংহে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ত্রিশালে সবজি ভালো উৎপাদন হয়। এবছর গ্রীস্মকালীন সবজি ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। শীতকালীন সবজি ১৬শ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি অফিস থেকে কৃষকদেরকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদর্শনী দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদেরকে বিভিন্ন পরামর্শের পাশাপাশি তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাজারে সবজির কোন ঘাটতি নেই।
