
মোঃ কাউছার খান
বার্তা সম্পাদক: ৪১ তম বিসিএসে চূড়ান্ত ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডার (রসায়ন) সুপারিশপ্রাপ্ত অর্জন করেছেন খাদিমুল ইসলাম । তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ হতে কৃতিত্বের সাথে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।
খাদিমুল ইসলাম ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের আবুল কাশেম খানের পঞ্চম সন্তান।
খাদিমুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বড় ভাই আশিকুর রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, বড় বোন সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, খালিমুলের যমজ ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক হেলথ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং ছোট ভাই বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি,এলএলএম শেষ করেছেন।
তিনি ভরাডোবা উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
অনার্স শেষ করার পর প্রথমবার তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন, পাবনা শাখায় জেনারেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন, পরবর্তীতে চার মাস সেখানে কর্মরত ছিলেন। ৩৮ তম প্রিলিতে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন খাদিমুল ইসলাম, সেখানে কর্মরত ছিলেন তিন মাসের অধিক সময়। তারই মধ্যে সিলেট পলিটেকনিকে যোগদান করার কিছুদিন পর সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ আসে, কিন্তু সেখানে জয়েন করেন নি। শিক্ষা ক্যাডার হওয়ার আগে ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রজ্ঞাপন আসার পর তিনি সেখানে যোগদান করেন ।
খাদিমুল ইসলাম জানান, আমার সাফল্যের পিছনে যারা আছেন তারা হচ্ছেন আমার বাবা-মা। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দোয়ার বদৌলতে আমি বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডার হতে পেরেছি । বাবা-মায়ের পর আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন আমার সহোদর বড় ভাই আশিকুর রহমান। তিনি আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন – যার ফলে আমি আজ শিক্ষা ক্যাডারের সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। আমার আরেক পরম শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। তিনি আমাকে সকল দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, আমার প্রেরণার উৎস তিনি। মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ভাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আমতলী, বরগুনায় বতর্মানে দায়িত্বরত আছেন। আমাকে আরও প্রেরণা দিয়েছেন আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকী, তিনিও বতর্মানে এসি ল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমার হলের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই খন্দকার আমিরুল হুদা, নয়ন ভাই, আনোয়ার ভাই, আমার সহপাঠী সহ আরও অনেকে আমাকে প্রেরণা ও পথ দেখিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বিসিএস অনেক লম্বা যাত্রা। যারা ধৈর্য সহকারে সমস্ত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে – দিন শেষে তারাই সফল হয়। অনেকে মাঝ পথে এসে সমস্ত আশা হারিয়ে পিছিয়ে পরে। আমি যথা সাধ্য চেষ্টা করেছি আমার লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য। আলহামদুলিল্লাহ আমি সফলও হয়েছে। আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতেই শুকরিয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালার কাছে। তবে আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমি যেনো আরও ভালো ক্যাটাগরিতে ক্যাডার অর্জন করতে পারি সেজন্য চেষ্টা করে যাবো, আমার পরবর্তী ইচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া। সামনে যেনো আরও ভালো কিছু করতে পারি সেজন্য আপনাদের সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
