
ময়মনসিংহের ভালুকায় আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিঃ এর বিরুদ্ধে এক বিধবা নারী ও তার ছেলের প্রায় ৭কোটি টাকা মূল্যের ৫৬.৫শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভালুকা পৌরসভার ৯নংওয়ার্ড কাঠালী এলাকায়। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী পরিবার ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,উপজেলার কাঁঠালি মৌজার ২৭১নং দাগে ১৯৯৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনটি দলিলে (নাম্বার ৭৪২২,৪৭৮ ও ৬৫১৭)আরওআর জোতদার কমলীনি বর্মনির কাছ থেকে কাঠালী গ্রামের মৃত রুহুল আমীন সরকারের স্ত্রী মোছাঃ রুপালী বেগম ১একর ১৬শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে রুপালী বেগমের ছেলে অমিত হাসান হৃদয় ওই জমিতে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত বছরের জুন মাসে বিকন কোম্পানি গোন্ডাপান্ডা দিয়ে ৫৬.৫শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। ওই সময় অমিত হাসান হৃদয় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ভালুকা সিনিয়র সিভিল জর্জ আদালত ময়মনসিংহে ১৫১/২০২৫ নং মোকাদ্দমা দায়ের ও সত্য ঘোষণা মর্মে ময়মনসিংহ তৃতীয় যুগ্ম জেলার জর্জ আদালতে (নং৩২২/২০২৫) মামলা করেন। ওই দুটি মামলায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির এমডি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের আ’লীগের সংসদ সদস্য এবায়দুল করিম বুলবুল,তার স্ত্রী নূরুন্নাহার করিম ও ছেলে উলফত করিমের নামে নোটিশ জারি করেন। এ দিকে বিবাদী পক্ষে মামলার কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না দিয়ে সময় ক্ষেপন করেন। গত ডিসেম্বর মাসে আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে ডিসেম্বরের ৪তারিখ স্থানীয় ভূমিদস্যু ও দোসরদের নিয়ে ওই পুকুরের জমি ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলে টিনের বেড়া ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। ওই সময় ভূক্তভোগী পরিবারটি প্রতিকার চেয়ে জমির মালিকের ছেলে অমিত হাসান হৃদয় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
বিকন কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবায়দুল করিম বুলবুল বিগত আ’লীগ সরকারের সময় ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে আশপাশের বহু নিরীহ মানুষের প্রায় ৬৫কোটি টাকা মূল্যের ৭একর বিআরএস রেকর্ডের জমি তাদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন(খতিয়ান নাম্বার ৪২১,৯৫৬ ও ১০৮০)। পরবর্তীতে ভূক্তভোগীরা খোঁজ পেয়ে ময়মনসিংহ সেটেলমেন্ট অফিসে মিসকেইস করলে বিকন কোম্পানির ওই সব খতিয়ান গুলোর আংশিক বাতিল করে দেয়া হয়।
জমির মালিক অমিত হাসান হৃদয় জানান, আমরা ওই জমিতে বহু বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছিলাম। সিএস,আরওআর ও বিআরএস থেকে আমাদের জমি কাগজপত্রের ধারাবাহিকতা সঠিক রয়েছে। এবায়দুল করিমের মৃত্যুর পর তাঁর ছোট ছেলে উলফত করিম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার পর তিনি আইন আদালতকে কোনো তোয়াক্কা না করে পেশি শক্তি ও স্থানীয় ভূমি দস্যুদের মাধ্যমে আমার জমি দখল করে নিয়েছেন।
বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিঃ এর অ্যাডমিন ম্যানেজার ফায়জার রশিদ জানান, আমাদের কোম্পানির সঠিক দলিলপত্র দেখেই জমি কিনেছে। আমরা সম্পুর্ণ লিগ্যাল আছি।যারা দাবি করছে তারা সম্পর্ণ ইললিগ্যাল। আদালতে দুটি মামলার কারণ দর্শানো নোটিশ জারির পরও কেন ওই জমি ভরাট করে ভাউন্ডারি ওয়াল ও টিনের ভেড়া দিলেন প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, আমাদের কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার আছে তারা বিষয়টি দেখাশুনা করছেন।
