ভালুকায় জমি দখলের চেষ্টায় গাছপালা কাটার অভিযোগ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় পৈত্রিক জমি জবরদখলের চেষ্টায় গাছপালা কেটে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. হুমায়ুন কবির (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উপজেলার আশকা এলাকার মো. তাছেন আলী শেখ (৬০), মো. রাসেল শেখ (৩৫), মো. রাজিব মিয়া (৩৩), মো. রকিবুল ইসলাম (২৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২৭), মো. মাসুম মিয়া (২৪), মো. আপেল শেখ (৩৫), মো. জুয়েল শেখ (৪০) ও মো. রুবেল শেখ (৪৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন কবির ও তার চাচাতো ভাই মো. খলিলুর রহমান আশকা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমির বি.আর.এস রেকর্ড হুমায়ুন কবিরের বাবা ও চাচা মো. নবী হোসেনের নামে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে থাকা তিনটি কাঁঠালগাছ, দুটি একাশি গাছ, প্রায় ৫০টি বাঁশসহ বিভিন্ন গাছপালা কেটে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

খবর পেয়ে হুমায়ুন কবির ও তার চাচাতো ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দা ও লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

হুমায়ুন কবিরের দাবি, অভিযুক্তরা জমিটি জবরদখলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা, মারধর ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দিয়েছেন। এতে জমি নিয়ে আরও বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাজিব মিয়া বলেন, ‘জমিটি আমাদের একই ওয়ারিশের। শুধু তার নামে বি.আর.এস রেকর্ড হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমরা কোনো গাছ কাটিনি। জমিটি আমাদের দখলে রয়েছে।’

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *