ভালুকার মামা-ভাগ্নে এক্স নোয়া গাড়ি নিয়ে বিরোধ, আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে মামলা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় মামা-ভাগ্নের মধ্যে এক্স নোয়া গাড়ির মালিকানা নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, এমনকি মানহানির মামলাও হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার মো. কাদের আলীর ছেলে মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন গত ২০২৪ সালের ১২ জুন তার মামা শাহাবুদ্দিনকে অভিভাবক হিসেবে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার “সিলেক্ট অটো” শোরুম থেকে একটি টয়োটা এক্স নোয়া গাড়ি ক্রয় করেন। গাড়ির দাম পরিশোধের সময় পর্যায়ক্রমে মোট ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা শোরুমে জমা দেন মোফাজ্জল।
তবে প্রথম মানি রিসিটে ভুলবশত মামা শাহাবুদ্দিনের নাম লেখায় পরবর্তীতে সেই রিসিটকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সুযোগ বুঝে শাহাবুদ্দিন ওই রিসিটের ভিত্তিতে গাড়ির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেন এবং ভাগ্নে মোফাজ্জলকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গাড়িটি আমি নিজের টাকায় ক্রয় করেছি। ব্যাংক লোনসহ সব কাগজপত্র আমার পিতা কাদের আলীর নামে করা হয়েছে। কিন্তু এক রিসিটে মামার নাম থাকায় তিনি এখন গাড়ির দাবি করছেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, তার মামা এখন গাড়ির বিনিময়ে ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করছেন। “বিষয়টি নিয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মামা শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গাড়িটি তিনিই কিনেছেন এবং সব কাগজপত্র তার কাছেই রয়েছে। তবে কাগজপত্র দেখানোর অনুরোধে তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।
এ ঘটনায় শোরুম কর্তৃপক্ষও বিরক্তি প্রকাশ করেছে। “সিলেক্ট অটো”-এর ম্যানেজার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, শাহাবুদ্দিন বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন, যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। এ কারণে আমরা তার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *