
ময়মনসিংহের ভালুকায় গোপনে ও নিয়মবহিঃভুর্ত ভাবে উপজেলার সোয়াইল দাখিল মাদরাসায় এক আ’লীগ কর্মীকে সভাপতি করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (১২ জুলাই) ভালুকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদরাসার দাতা সদস্যরা এই অভিযোগ করেন।
মাদরাসার দাতা পরিবারের সদস্য আকতার হোসেন খান জানান, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পর সোয়াইল দাখিল মাদরাসার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু মাদরাসার সুপার মো: রাশেদুল ইসলাম আকন্দ কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকল্পে মাদরাসা বোর্ডে প্রেরণ করেন। পরে ২৪ জুন মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ওই কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে দেখা যায়, স্থানীয় আলী হোসেন খানকে সভাপতি ও তার ছেলে আজম খানকে দাতা সদস্য হিসেবে রাখা হয়। তাছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও আ’লীগ পরিবারের সদস্য। বিগত আ’লীগের সময় আজম খান ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এরই প্রতিবাদে তাদের এই সংবাদ সম্মেলন। এ সময় ওই মাদরাসার জমি দাতা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমান সভাপতি মো. আলী হোসেন খান ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা এক সময় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সুপার বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিধি লঙ্ঘন করে কমিটি গঠন করেছেন। মো: আক্তার হোসেন খান এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষ, শিক্ষানুরাগী এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে সোইয়াল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো: রাশেদুল ইসলাম আকন্দ জানান, বিধি মোতাবেক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে, কোন অনিয়ম করা হয়নি এবং আমি আ’লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষ অফিসার মো: মোস্তফা কামাল জানান, আমি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরেজমিনে তদন্তে করেছি, স্থানীয় লোকজন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে ওই কমিটি গঠনে তারা কিছুই জানেন না।
