
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় এক বিধবা নারীর বসতঘর ভেঙে টিনের চাল খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত।
ভুক্তভোগী মোছা. রাশিদা বেগম (৪৯) হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাওরারচালা গ্রামের মৃত উয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফজলুল হক খানের কাছ থেকে হবিরবাড়ী মৌজায় ৯ শতাংশ জমি কেনেন। পরে সেখানে একটি টিনসেট বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজনের কারণে তিনি জমি ও বসতঘর অন্য একজনের কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকেই আগের জমির মালিক ও তাঁর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন।
রাশিদা বেগমের অভিযোগ, গত ১৯ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তাঁর টিনসেট বসতঘর ভেঙে টিনের চাল খুলে নিয়ে যান। এতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন মো. ফজলুল হক খান (৬৩), তাঁর ছেলে মো. সাব্বির খান (৩০), মো. নজরুল ইসলাম খান (৪৫) ও শরীফ (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাওরারচালা গ্রামে।
রাশিদা বেগম বলেন, “প্রায় ১০ বছর ধরে কেনা জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি। আমার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেছেন। আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমি জায়গাটি বিক্রি করতে চাইলে তারা বাধা দেয়। পরে হুমকি দিয়ে আমার ঘর ভেঙে নিয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। রাশিদা বেগম জমি কিনে নিজ খরচে প্রায় ছয়-সাত বছর আগে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে ঘরটি ভেঙে নেওয়ার ঘটনায় ফজলুল হক খানকে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. ফজলুল হক খান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি ওই মহিলাকে ঘর করে দিয়েছিলাম। ঘর আমি ভেঙে নিয়ে গেছি। হুমায়ুনের কাছে আমার লাভের টাকা পাওনা আছে, সে টাকা দিচ্ছে না। তাদের সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা নেই। আমার শেয়ারের টাকা পেলেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেছি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য এলাকাবাসী সময় নিয়েছেন। এরপরও সমাধান না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
